29 C
Bangladesh
Saturday, August 13, 2022
Lifestyleকরোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ

করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ

- Advertisement -
- Advertisement -

করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ : বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ রচনা হয়ে গেছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস রোগের মহামারী বলতে বাংলাদেশে এটির প্রাদুর্ভাব  দ্রুত বিস্তারের চলমান ঘটনাটিকে নির্দেশ করে, যা বর্তমানে চলমান বিশ্বজুড়ে মহামারীর একটি অংশ। 

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ (কোভিড-১৯) নামক একটি রোগ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই বৈশ্বিক মহামারীটির সৃষ্টি হয়েছে।করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ডিসেম্বর ২০১৯ এ সর্বপ্রথম চীনের হুবেই এর উহান শহরে রিপোর্ট করা হয় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

coronavirus bangladesh live update

করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ

করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কোভিডে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৭ হাজার ৯৪৬ জন, এবং এই মুহূর্তে দেশটিতে মৃত্যুর হার প্রতি ১০০জন শনাক্তের হিসাবে ১.৭৮।

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শনাক্তের হিসাবে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের হার ৯৭.৭২। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোভিড শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৯ জন।

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে প্রথম কবে আসে

৮ই মার্চ ২০২০। সেদিন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের থেকে প্রথমবারের মত জানানো হয় বাংলাদেশে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

রোগতত্ত্ব বিভাগ বলছে, ইতালি থেকে করোনার সংক্রমণ নিয়ে দেশে ফেরেন দুই বাংলাদেশি। যাদের মধ্যে একজনের পরিবারের সদস্যসহ মোট তিনজনে কোভিড নাইনটিন শনাক্ত নিশ্চিত হয়। সংক্রমণের শঙ্কায় কোয়ারেন্টিনে আছে আরও ৩ জন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম ধরা পড়ে করোনা আক্রান্ত রোগী। পরে চীনের অন্যান্য প্রদেশ এবং বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ভারত ও পাকিস্তানেও করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

করোনা ভাইরাস এর লক্ষন সমূহ

কোভিড-১৯ এক নতুন রোগ যা আপনার ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর ক্ষতি করতে সক্ষম।

কোভিড-১৯ হয়েছে কিনা বুঝতে হলে সাধারণত জ্বর, ক্লান্তিময় ভাব এবং শুকনা কাঁশি উপসর্গ গুলো ধর্তব্যের মধ্যে আনতে হবে। কিছু রোগীদের মাঝে গায়ে ব্যথা, শ্বাসনালী সংক্রমন, সর্দি, গলা ব্যথা, ডায়ারিয়াও দেখা দিতে পারে।

এই উপসর্গগুলো শুরুতে হালকা ভাবে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আরো বাড়তে থাকে। এমনও দেখা যায় যে সংক্রমিত হওয়ার ২ থেকে ১৪ দিন পরেও এই উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে ।

এ রোগের সংক্রমণের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসযন্ত্রের রোগের লক্ষণের ন্যায় শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, জ্বর, কাশি এবং সহজে হাঁপিয়ে যাওয়া। রোগের সংক্রমণের মাত্রা বেশি হলে নিউমোনিয়া, সিভিয়ার একিউট রেসিপিটরি সিন্ড্রোম, কিডনীর কাজ করা বন্ধ হয়ে যাওয়া এমনকি মৃত্যু ঘটাতে পারে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও পরামর্শ

ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, নিজের মুখ স্পর্শ থেকে বিরত থাকুন, শ্বাস প্রশ্বাসের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন,

এখন পর্যন্ত এমন কোন টিকা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি যা দিয়ে করোনা ভাইরাস রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব ।এই অসুস্থতা থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায় হল এই ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত না হওয়া । আমাদের উচিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সাম্প্রতিক তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকা।

করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ

করোনা ভাইরাস থেকে বাচতে নিম্ন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন

  • অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকুন – অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বাহিরে যাওয়া ব্যতীত বাড়িতে থাকুন।
  • আপনার নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন – হাঁচি / কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু দিয়ে আপনার নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন (ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন)। টিস্যু না থাকলে আপনার কনুই এর বিপরীত পাশ দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকুন।
  • অসুস্থ হলে ফেইস মাস্ক পড়ুন – অসুস্থ হলে অন্য মানুষের সংস্পর্শে আসবেন এরূপ স্থানে (অন্য মানুষ থাকবে এমন ঘর বা যানবাহনে) ও হাসপাতালে প্রবেশের পূর্বে মাস্ক পরিধান করেন।
  • ঘন ঘন স্পর্শ করা হয় এমন স্থান ও বস্তু দৈনিক পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন – ঘন ঘন স্পর্শ করা হয় এমন স্থান ও বস্তু যেমনঃ মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার, লাইটের সুইচ, টেবিলের উপরিভাগ, বিভিন্ন বস্তুর হাতল, ডেস্ক, টয়লেট, পানির কল এবং বেসিন ইত্যাদি প্রতিদিন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন।
  • ঘন ঘন ময়লা হয় এরূপ স্থান জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখুন – ঘন ঘন ময়লা হয় এরূপ স্থান ডিটারজেন্ট অথবা সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।
  • নিজ এলাকার কোভিড-১৯পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত থাকুন – আপনার এলাকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য গণস্বাস্থ্য কর্মীর নিকট হতে সংগ্রহ করুন।
  • নির্দিষ্ট পলিথিন দেওয়া ময়লার ঝুড়ি – অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সম্ভব হলে পলিথিন দেওয়া ময়লার ঝুড়ি নির্দিষ্ট করে দিবেন। ময়লা সরানো এবং ফেলে দেওয়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করবেন।

করোনা সংক্রমণ এড়াতে নিয়মিত সাবান/এলকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা, হাঁচি বা কাশির সময় নাক ও মুখ ঢেকে ফেলা, ডিম ও মাংস অধিক সময় ধরে সিদ্ধ করে রান্না করা এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগের লক্ষণ যেমন হাঁচি কাশি আছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে ।

কতটা ভয়ংকর এই ভাইরাস?

শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো এই ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে । কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

মেডিক্যাল মাস্ক পরা উচিত কেন ?

করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যাল মাস্ক সাহায্য করে। তবে এটার ব্যবহারই এককভাবে সংক্রমণ হ্রাস করতে যথেষ্ঠ নয়। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করা এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায়।

করোনা ভাইরাস সাধারণ জ্ঞান

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

১) করোনা শব্দের আভিধানিক অর্থ কি?
উঃ মাথার মুকুট
২) কোন দশকে করোনা ভাইরাসের সন্দেহ
মেলে?
উঃ ১৯৩০
৩) করোনা ভাইরাস কত সালে আবিষ্কার হয়?
উঃ ১৯৬০
৪) WHO কবে এই ভাইরাসের নাম দেন 2019-
nCOV?
৭ জানুয়ারি,২০২০

৫) কোভিড-১৯ কবে নামকরণ করা হয়?
উঃ ১১ ফেব্রুয়ারি,২০২০
৬) কোভিড-১৯ রোগটি প্রথম কোথায় ও কবে
সনাক্ত করা হয়?
উঃ ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের উহান
নগরীতে রোগটি সনাক্ত করা হয়।
৭) WHO, COVID-19 কবে PANDEMIC হিসেবে
ঘোষণা করে?
উঃ ১১ মার্চ, ২০২০
৮) COVID-19 রোগটির বহনকারী ভাইরাসটির নাম
কি?
উঃ SARS-COV-2
৯) বিজ্ঞানীরা কবে কোভিড-১৯ কে সার্স-
করোনা ভাইরাস গোত্রের বলেন?
উঃ ৯জানুয়ারি,২০২০
১০) কোভিড-১৯ কে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে
কবে কে ঘোষণা দেয়?
উঃ ১১ মার্চ,WHO
১১) বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী
সনাক্ত করা হয় কবে?
উঃ ৮ মার্চ, ২০২০

করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ

১২) কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে
বাংলাদেশে প্রথম মারা যায় কবে?
উঃ ১৮ মার্চ,২০২০
১৩) সর্বপ্রথম বাংলাদেশ কোন জেলা লকডাউন
ঘোষণা করা হয়?
উঃ মাদারীপুর
১৪) আইইডিসিআর কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উঃ ১৯৭৬
১৫) IEDCR- পূর্ণরুপ কী?
উঃ Institute of Epidemiology, Diseases Control
and
Research.
১৬) IEDCR এর বর্তমান পরিচালক কে?
উঃ প্রফেসর ড. মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা।
১৭) IEDCR এর সদর দপ্তর কোথায়?
উঃ মহাখালী, ঢাকা।
১৮) PPE এর পূর্নরুপ কি?
উঃ Personal protective Equipment.
১৯) সর্বপ্রথম বাংলাদেশের নাগরিক কোন
দেশে
করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়?
উঃ সিঙ্গাপুর
২০)করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষার জন্য নাক
ও গলার লালার নমুনা সংগ্রহ করার বিশেষ কাঠির নাম
কী?
উত্তরঃ সোয়াব স্টিক
২১) করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট বাংলাদেশেকে
সরবরাহ করেছে?
উঃ WHO
২২)করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে গণস্বাস্থ্যের
তৈরি
কিটের নাম কী?
উত্তরঃ জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট
২৩) করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের বিশ্বের প্রায়
কয়টি দেশে সংক্রমণের বিস্তার করে?
উঃ ২০০টি
২৪) করোনা ভাইরাস সর্বপ্রথম ইউরোপের
কোন দেশে ধরা পরে?
উঃ ফ্রান্স
২৫) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বপ্রথম
বাংলাদেশের কোন ডাক্তার মারা যান?
উঃ ড. মইনুদ্দিন
২৬) করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে সর্বপ্রথম
কোন সাংবাদিক মারা যান?
উঃ হুমায়ুন কবির খোকন
২৭) করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্ককারী
চিকিৎসকের
নাম কি?
উঃ লি ওয়েনলিয়াং
২৮) লি ওয়েনলিয়াং কবে মারা যান?
উঃ ৬ ফেব্রুয়ারী,২০২০
২৯) WHO কবে বৈশ্বিক অবস্থা জারি করে?
উঃ ৩০ জানুয়ারি,২০২০
৩০) করোনা ভাইরাসের ৭ম প্রজাতির নাম কি?
2019 Novel Corona Virus

করোনা ভাইরাস ও বাংলাদেশ

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ সর্বশেষ খবর

#করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার রোধ করার জন্য, #বাংলাদেশের সরকার ১৩ জানুয়ারি ২০২২ থেকে (পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত) নতুন কিছু ব্যবস্থা ঘোষণা দিয়েছে। সুরক্ষিত থাকার জন্য প্রত্যেককে অবশ্যই বাড়ির বাহিরে, কর্মক্ষেত্রে, রেস্তোরাঁয় বা বাজারে মাস্ক পরে থাকতে হবে।

কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে, হোটেলে থাকতে হলে অথবা বন্দরে প্রবেশ করতে হলে প্রত্যেককে তাদের করোনাভাইরাসের টিকার সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।

১২ বছরের ঊর্ধ্বের সকল ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের টিকার সার্টিফিকেট ছাড়া স্কুলে প্রবেশ করতে পারবে না। ট্রেন, বাস ও লঞ্চ চলাচল করবে কিন্তু অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিতে পারবে।

খোলা জায়গায় সকল প্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান/সমাবেশ বন্ধ রাখতে হবে। যেহেতু জনসাধারণের জন্য করোনাভাইরাস ও বুস্টার ডোজের টিকাদান দ্রুত গতিতে চলছে, আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সুযোগ আসলেই টিকা নিতে হবে।

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ সর্বশেষ খবর
করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ সর্বশেষ খবর

- Advertisement -
Mir Sayedhttps://www.mirbhai.com
I am a person who completed up to class 10 and want to give job to those completing graduation.... _______If you love someone, they will burn you, and if you love money, everyone will love you____( Mir Sayed)
Latest news
- Advertisement -
Related news
- Advertisement -