33 C
Bangladesh
Wednesday, October 5, 2022
HomeGlobalজাতীয় শোক দিবস ১৫ই আগস্ট ২০২২

জাতীয় শোক দিবস ১৫ই আগস্ট ২০২২

- Advertisement -
- Advertisement -

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও তার পরিবার সহ মোট ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ২ কন্যা শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনা জার্মানিতে থাকার কারণে তারা দুইজন বেঁচে যান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে মৃত্যুর অনেক দিন পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় শোক দিবস ১৫ই আগস্ট পালন করা হয়। এ দিবসে কালো পতাকা উত্তোলন ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

জাতীয় শোক দিবস – ইতিহাস ও তাৎপর্য

বাংলাদেশের ইতিহাসে যতগুলো নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে সবচেয়ে দুঃখজনক এবং জাতির জন্য ক্ষতিকর হত্যাকাণ্ড হলোঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের নির্মম হত্যাকান্ড। কেননা এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি তাদের অভিভাবক কে হারিয়েছে।একইসাথে সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং স্বাধীনতার রূপকারকেও হারিয়েছে। বাঙালি জাতির এই ক্ষতি অপূরণীয়। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার অর্ধাঙ্গী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তার পুত্র শেখ কামাল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের কর্নেল জামিল, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক সহ বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি। 

এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় ঘাতককারীরা হামলা করে এবং সেখানে আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার কন্যা বেবী, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত ও তাদের একজন নিকটস্থ আত্নীয় বেন্টু খানকে হত্যা করে ঘাতকবাহীনি।

বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয় আগস্ট মাসের ১৫ তারিখে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারকে হত্যা করা হয়। তাদের মৃত্যু বার্ষিকী স্মরণ করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর আগস্ট মাসের ১৫ তারিখে শোক দিবস পালন করা হয়।

জাতীয় শোক দিবস কর্মসূচি

১৫ আগস্ট সকালে সূর্যদয়ের সাথে সাথেই সকল সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে রাখা হয়। মোনাজাত, কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

এছাড়াও ১৫ আগস্টের নিহত সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই দিনে সকল বেতার ও টেলিভিশনে শোক দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জাতে বিশেষ মুনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়ে থাকে।

জাতীয় শোক দিবস ছবি
শোক দিবস ছবি

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস রচনা

১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট রাত ৩ টায় মেজর আলাউদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িতে এসেছিল। সেখানে এসে তিনি দেখেন স্টেশন কমান্ডার আগেই সেখানে পৌছে গেছেন।

দেখেন সেখানে মেজর বজলুল হুদা ও তার সকল লোকজন বাড়িটি পাহারা দিচ্ছেন। মেজর বজলুল হুদা প্রথমে মেজর আলাউদ্দিন আহমেদকে বাড়িটিতে ঢুকতে বাঁধা দিচ্ছিলেন কিন্তু পরে ঢুকার অনুমতি দেন।

মেজর আলাউদ্দিন আহমেদ ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়িতে গিয়ে দেখেন সব গুলো লাশকে নিচে আনা হয়েছে এবং কাঠের কফিনে রাখা হয়। লাশগুলোতে বরফ দেওয়া হচ্ছিল।

রক্ত, মগজ, হাড়ের গুড়া সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ঘরের মেঝে, জানালার কাচ, দেয়াল ও বাড়ির ছাদ। দেখেই বুঝা যাচ্ছিল সকলকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।

গুলি করার ফলে বাড়ির দেয়ালগুলো ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল, ভেঙ্গে গিয়েছিল বাড়ির জানালার কিছু কাচ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল বাড়ির সকল জিনিসপত্র এমনকি পবিত্র কোরআন শরীফও মেঝেতে পড়ে ছিল।

শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় যে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের লাশগুলো কোথায় কোথায় পাওয়া গিয়েছিল তা নিম্নরূপ-

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান – শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছিল প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে যে সমতল ভূমি আছে তার ৩-৪ ধাপ উপরে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর চশমার ভাঙ্গা কাঁচ ও তামাকের পাইপ সিঁড়িতে পরে ছিল।

শেখ কামাল – শেখ কামালকে অভ্যর্থনাকক্ষে পাওয়া যায়। শেখ কামালকেও বুকে ও তলপেটে বুলেট মেরে ঝাঁঝরা করা হয়।

টেলিফোন অপারেটর – টেলিফোন অপারেটরকে নিচের রুমে খুন করা হয় এবং তার লাশ সেখানেই পাওয়া যায়।

শেখ নাসের – শেখ নাসেরকে নিচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে পাওয়া যায়। গুলিতে তার পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে ছিল এবং তার একটি হাত উড়ে গিয়েছিল।

বেগম ফজিলাতুন্নেসা  – বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকে মূল বেডরুমের সামনে পাওয়া যায়। সেদিন তিনি একটি সুতি শাড়ি ও কালো ব্লাউজ পড়ে ছিলেন। তার মুখে গুলি করা হয়। তিনি একটি সোনার হাড় পরেছিলেন। তার হাতে ছিল একটি ছোট সোনার আংটি।

সুলতানা কামাল – সুলতানা কামালকে মূল বেডরুমে পাওয়া যায়। তাকে বুকে ও তলপেটে গুলি করা হয়।

শেখ জামাল – শেখ জামালকে মূল বেডরুমে পাওয়া যায়। তার মাথা চিবুকের নিচ থেকে উড়ে গেছিল। তার হাতে একটি মুক্তার আংটি ছিল। সম্ভবত এটি বিয়ের আংটি ছিল। 

রোজী জামাল – রোজী জামালকে মূল বেডরুমে পাওয়া যায়। তার মাথা, বুক ও তলপেটে গুলি করা হয়েছিল। তার মাথার একাংশ উড়ে গেছিল। 

শিশু রাসেল – শিশু শেখ রাসেলকে মূল বেডরুমে, তার দুই ভাবির মাঝখানে পাওয়া যায়। তার পা সম্ভবত আগুনে পুড়ে গেছিল ও মাথা উড়ে গেছিল।

জাতীয় শোক দিবস ১৫ই আগস্ট ২০২২

১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর শোক দিবস পালন করা হয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে।

কিন্তু ২০০২ সালে বিরোধীদল ক্ষমতায় আসলে শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তার ৬ বছর পর হাইকোর্টের আদেশে আবার ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়।

বাংলাদেশে  ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয় ।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

  • বরাবর
  • অধ্যক্ষ,
  • অধ্যক্ষ, রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, সপুরা, রাজশাহী
  • বিষয়ঃ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতিবেদন তৈরি।
  • জনাব, রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, রাজশাহী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে একটি  প্রতিবেদন উপস্থাপন করছি।

গত ১৫ই আগস্ট ২০২২ আমাদের রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ৪৭তম জাতীয় শোক দিবস, দোয়া, মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এই সময় রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটিকর্পোরেশনের মেয়র জনাব এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিশেষ অতিথী উক্ত ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের প্রধান অধ্যক্ষ।

এই সময় সকাল ৭ঃ৩০ মিনিটে প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরনের মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু করা হয়। তারপর সকল শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের কালো ব্যাজ পড়ানো হয়। ইন্সটিটিউটের প্রধান অধ্যক্ষ আমাদের সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরকে শোকের কালো ব্যাজ পড়ান।

তারপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু করা হয় মূল অনুষ্ঠান। এই সময় আমাদের বিশেষ অতিথী প্রথমে তার বক্তব্যর মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেন। এবং পরবর্তীতে আমাদের প্রধান অতিথী বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি নিয়ে কিছু বলেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, আদর্শ এবং নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু কেমন ছিলে। কিভাবে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হল। এসব বলেই প্রধান অতিথী তার বক্তব্য শেষ করলেন।

তারপর আমাদের ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ তার বক্তব্য দিলেন এবং বিশেষ অতিথী ও প্রধান অতিথীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। 

অত্র ইন্সটিটিউটের ছাত্রের মাধ্যমে হামদ ও নাত পরিবেশন ও সর্বশেষ হুজুরের মাধ্যমে বিশেষ দোয়া, মাহফিল ও মোনাজাতের মাধ্যমে করে অনুষ্ঠান শেষ করলেন।

তারপর প্রধান অতিথী ও বিশেষ অতিথী বিদায়ের পর অত্র ইন্সটিটিউটে জাতীয় শোক দিবস নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু হয় যার বিষয় ছিল “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু”।

এই পর্বে রচনা প্রতিযোগিতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অত্র ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ পুরষ্কারস্বরূপ বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর লিখিত বই ও সার্টিফিকেট প্রদান করেন এবং ৪৭তম জাতীয় শোক দিবসের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

  • প্রতিবেদকের নামঃ সানিয়া আক্তার
  • কম্পিউটার টেকনোলজি, রোল নংঃ ৩১৭৭২০, রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, সপুরা, রাজশাহী।
  • প্রতিবেদনের শিরোনামঃ রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে জাতীয় শোক দিবস পালিত।
  • প্রতিবেদন তৈরির সময়ঃ বিকাল ৫ঃ০০ টা
  • তারিখঃ ১৫ আগস্ট ২০২২

জাতীয় শোক দিবস ১৫ই আগস্ট

Post Related things: জাতীয় শোক দিবস ২০২২, শোক দিবস প্রতিবেদন , জাতীয় শোক দিবস রচনা, জাতীয় শোক দিবস ইতিহাস, জাতীয় শোক দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ২০২২, জাতীয় শোক দিবস রচনা pdf, ১৫ আগস্ট সম্পর্কে বক্তৃতা, ১৫ আগস্ট ইতিহাসের এই দিনে, ১৫ আগস্ট ভাষণ, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫, ১৫ আগস্ট ২০২২, শোকাবহ ১৫ আগস্ট ছবি, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস বক্তব্য, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস স্ট্যাটাস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের ছবি, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পতাকা, জাতীয় শোক দিবস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পোস্ট, shuk dibosh, 15 august banner, 15 august bd, 15 august shuk dibos,

- Advertisement -
Mir Sayedhttps://www.mirbhai.com
I am a person who completed up to class 10 and want to give job to those completing graduation.... _______If you love someone, they will burn you, and if you love money, everyone will love you____( Mir Sayed)
Latest news
- Advertisement -
Related news
- Advertisement -